প্যারিসে বাংলাদেশি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

266
0
BCF

ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্স (বিসিএফ)। গত শনিবার (৬ অক্টোবর) প্যারিসের একটি মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে যাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয় তাদের কারও জন্ম বাংলাদেশে। পরে বাবা-মায়ের হাত ধরে এ দেশে চলে এসেছে। আবার কারও জন্ম এখানে। মেধাবী এই প্রজন্মের সঙ্গে কমিউনিটির একটি অবিচ্ছিন্ন সম্পর্ক স্থাপন করতে এবং মেধাবীদের রত্নগর্ভা মা আর বাবাদের সম্মান জানাতে বিসিএফ দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করে কৃতি শিক্ষার্থী সম্মাননা ২০১৮। চারটি ক্যাটাগরিতে মোট ২৪ জনকে সম্মাননা জানানো হয়। এ ছাড়া ফ্রান্সের জাতীয় ক্রিকেট দলে সুযোগ পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি জুবাইদ আহমেদ ও ফ্রেঞ্চ জাতীয় ক্রিকেট লীগে তৃতীয় বিভাগ চ্যাম্পিয়ন দল বাংলাদেশ ক্রিকেট ক্লাবের খেলোয়াড়দেরও বিশেষ সংবর্ধনা ও মেডেল দেওয়া হয়।

অতিথিদের সঙ্গে সংবর্ধিতরা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ও ফরাসি সরকারের সর্বোচ্চ খেতাবসহ চারটি রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত অধ্যাপক ড. মাহমুদ শাহ কোরেশি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফ্রান্সের ইনালকো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ফিলিপ বেনোয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদ শাহ কোরেশি ফ্রান্সে তার প্রবাসজীবনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, তাদের সময়ে হাতেগোনা কয়েকজন বাংলাদেশি সে সময়ে ফ্রান্সে ছিলেন। তিনি সে সময়কার স্মৃতিচারণ করেন ও তার শিক্ষা, গবেষণা ও পেশাগত জীবনের কথা তুলে ধরেন।

অতিথিদের সঙ্গে সংবর্ধিতরা

অনুষ্ঠানে উদ্দীপনামূলক বক্তব্য দেন সংবর্ধিত আকাশ হেলাল। মটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে তিনি বলেন, এ দেশের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসিরা তাদের মেধা, যোগ্যতা ও শ্রম দিয়ে জায়গা করে নেবে। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেই পয়সা খরচ করে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে হয়। কিন্তু ফ্রান্সে একরকম বিনে পয়সায় উচ্চশিক্ষা লাভ করা সম্ভব।

অতিথিদের সঙ্গে সংবর্ধিতরা

উল্লেখ্য, আকাশ হেলাল আইন বিষয়ে প্যারিসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।

কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন অভিভাবক শাহ জাফর, ইপিবি ফ্রান্স শাখার সভাপতি ফারুক খান, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আশরাফুল ইসলাম, এস এইচ হায়দার, ড. আবদুল মালেক ফরাজি, ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম, প্যারিস-বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এনায়েত হোসেন, নয়ন মামুন, ফেরদৌস করিম আখঞ্জী, কৌশিক রাব্বানী খান, তারেক আজিজ ও হোসাইন সালাম প্রমুখ।

সংবর্ধিত কয়েকজন

আয়োজনে ছিল বাংলা গান ও কবিতা। আজিমুল হক খান জীবনানন্দ দাসের একটি কবিতা আবৃতি করেন। সুরের মোহনায় উপস্থিত সকলকে মাতিয়ে তোলেন কণ্ঠশিল্পী ইমতিয়াজ ও মোহনা খান। বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত বাজানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন তুহিনা আক্তার রিমা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিসিএফের পরিচালক এমডি নুর। উপস্থাপনা করেন জহিরুল রানা।

সূত্রঃ প্রথম আলো

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
নুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!